১৭ মার্চ, ২০২৪ ০৭:২৯ পিএম

আগস্টে চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষা আয়োজনের দাবি, যা জানালো ডিন অফিস

আগস্টে চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষা আয়োজনের দাবি, যা জানালো ডিন অফিস
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষা আগামী আগস্ট মাসে আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন করোনায় পিছিয়েপড়া ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থীরা।

তাদের দাবি, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একই সেশনের পরীক্ষা এগিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু ঢাবি দেরিতে পরীক্ষার আয়োজন করছে। ফলে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চেয়ে তারা ৬-৮ মাস পিছিয়ে যাচ্ছেন।

তবে ঢাবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, করোনার সময় পরীক্ষায় অংশ গ্রহণে অনিহার জন্যই পিছিয়ে পড়েছে তারা। এখন পরীক্ষা এগিয়ে আনা হলে কারিকুলাম যথাযথভাবে সম্পন্ন করা যাবে না। এর পরও তাদের কোর্স কো-অর্ডিনেটরগণ সম্মত হলে ঢাবি বিষয়টি ভেবে দেখবেন, কিন্তু পরামর্শ দেওয়া সত্ত্বেও কোর্স কো-অর্ডিনেটর ও অধ্যক্ষগণের ফরওয়ার্ডিং চিঠি এখনো ডিন অফিসে জমা দিতে পারেনি তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মেডিকেল কলেজের ২০১৮-১৯ সেশনের এক প্রফ পরীক্ষার্থী মেডিভয়েসকে বলেন, একই সেশনের শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (আরএমইউ), চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিএমইউ) শিক্ষার্থীরা তাদের চেয়ে ৬-৮ মাস এগিয়ে থাকছে। আরএমইউর চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল সোমবার (১৮ মার্চ) থেকে। সিএমইউ ও সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (এসএমইউ) অধীনে ফাইনাল প্রফ পরীক্ষার সম্ভাব্য সময় আগামী আগস্ট মাস। তাহলে ঢাবি কেন পিছিয়ে থাকবে?

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ২য় পেশাগত পরীক্ষার জন্য এক বছরের জায়গায় এক বছর ৩ মাস সময় নেওয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে ঢাবি ডিন বলেছিলেন, মে এবং নভেম্বর ছাড়া অন্য কোনো সময়ে প্রফ নেওয়া হবে না। অথচ করোনার কারণে আমরা ২০১৮-২০১৯ সেশনের শিক্ষার্থীরা ১ম পেশাগত পরীক্ষা মে ২০২০ এর পরিবর্তে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে দিই। সে হিসাবে এক বছর পর ২য় পেশাগত পরীক্ষা ফেব্রুয়ারি ২০২২ নেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের পরীক্ষা নিতে বিলম্ব করে এবং আমাদের ২য় পেশাগত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২০২২ সালের মে মাসে। অথচ আমাদের জুনিয়রদের ২০১৯-২০২০ সেশনের ২য় পেশাগত পরীক্ষা জানুয়ারি ২০২৩ ও ৩য় পেশাগত পরীক্ষা একই বছরের ডিসেম্বর মাসে নেওয়া হয়। আবার সিনিয়রদের ২০১৭-২০১৮ সেশনের চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষা নেওয়া হয় ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে।

এক বছর সেশনজটের ফাঁদে

এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, ‘২০১৮-২০১৯ সেশনের চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষা নভেম্বরে আয়োজন করা হলে এ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অবিচার করা হবে। কেননা করোনা মহামারীর কারণে ২০১৬-২০১৭, ২০১৭-২০১৮, ২০১৯-২০২০, ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষসহ সকল ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ছয় মাসের সেশনজটের সম্মুখীন হয়েছেন, শুধুমাত্র ২০১৮-২০১৯ সেশনকে এক বছরে সেশনজটের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এটা হবে এই সেশনের শিক্ষার্থীদের সাথে অন্যায্য আচরণ।

বিসিএস-পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনেও পিছিয়ে যাওয়ার শঙ্কা 

শিক্ষার্থীরা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০১৮-২০১৯ সেশনের শিক্ষার্থীরা পোস্ট-গ্রাজুয়েশন বা বিসিএস পরীক্ষার ক্ষেত্রেও পিছিয়ে পড়ছে। কিন্তু তাঁদের বয়স তো থেমে থাকবে না। 

থাকবে না সাপ্লিমেন্টারির সুযোগ

তারা বলেন, বেশ কিছু শিক্ষার্থী অনেক ক্ষেত্রে চেষ্টা করেও একবারে ফাইনাল প্রফ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেন না। সেক্ষেত্রে তাঁদেরকে অপেক্ষা করতে হয় সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার জন্য। কিন্তু নভেম্বরে পরীক্ষা নিলে স্বাভাবিকভাবেই ২০১৮-২০১৯ সেশনের শিক্ষার্থীরা আর সাপ্লিমেন্টারি দেওয়ার সুযোগ পাবেন না। ফলে তাদেরকে সরাসরি ২০১৯-২০২০ সেশনের সাথে আবার ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। যেমনটা হয়েছিল মে ২০২৩ মাসে ৩য় পেশাগত পরীক্ষায় অনুউত্তীর্ণদের বেলায়। তাদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা নভেম্বরে ২০২৩ না নিয়ে ২০১৯-২০২০ সেশনের সাথে ডিসেম্বরে নেওয়া হয়। যদি ২০১৮-২০১৯ সেশনের ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষার ক্ষেত্রেও একই রকম পরিকল্পনা করা হয়, তাহলে তাদের সাথে আরেকটি জুলুম করা হবে। কারণ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় শিক্ষার্থী সংখ্যা কম থাকায় ১-১.৫ মাসের মধ্যেই পরীক্ষা শেষ হয়ে যায়। কিন্তু নিয়মিত ব্যাচের সাথে পরীক্ষা দিতে গেলেই ২-২.৫ মাস সময় লাগে। নিয়মিত ব্যাচে খারাপ করলে প্রথমে একবার সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পায়, সেখানেও খারাপ করলে জুনিয়র ব্যাচের সাথে রিসাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা দিতে হয়। কিন্তু ঢাবির পরিকল্পনায় ২০১৮-২০১৯ সেশনের জন্য ন্যায্য সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা থাকবে না। এ সেশনের শিক্ষার্থীরা একবার খারাপ করলে সরাসরি জুনিয়রদের সাথে বসতে হবে। 

আগস্টে পরীক্ষা আয়োজনের দাবি

আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহে পরীক্ষা আয়োজনের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, এ লক্ষ্যে পরীক্ষার একটা সম্ভাব্য রুটিন প্রকাশ করা হোক এবং সে হিসাবে লেকচার ক্লাস, ওয়ার্ড এবং ব্লক প্লেসমেন্ট রি-স্কেজ্যুলড করা হোক। আগস্টে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে জানুয়ারির মধ্যে খারাপ করা পরীক্ষার্থীদের জন্য একটা সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার আয়োজন করা সম্ভব হবে, যা তাদের ন্যায্য অধিকার। ২০১৭-২০১৮ সেশনের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা ডিসেম্বর ২০২৩ এ অনুষ্ঠিত হয়েছে, সে হিসাবে ওই সেশনের রি-সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা মে ২০২৪ এ অনুষ্ঠিত হতে পারে।

ডিন অনুষদের বক্তব্য

জানতে চাইলে ঢাবির চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শাহরিয়ার নবী আজ রোববার (১৭ মার্চ) দুপুরে মেডিভয়েসকে বলেন, ‘করোনার সময় ওরা পরীক্ষা পেছাতে চেয়েছিল। আমরা বারবার বলেছিলাম, তোমরা পরীক্ষায় বসো; না হলে পিছিয়ে যাবে। কষ্ট করে পরীক্ষাটা দাও। তারা সম্মত হয়নি। আজকে কিন্তু এর জেরই টানছে হচ্ছে ওদের। তাদের পরীক্ষা হবে আগামী নভেম্বর মাসে, পরে ব্যাচের সঙ্গে তাদের ব্যবধান হবে মাত্র ছয় মাস। পেছনের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যাচ্ছে, ফলে তারা এখন চিন্তিত। তখন (করোনার সময়) আমাদের কথাগুলো আমলে নিলে ওদের জন্যই কল্যাণকর হতো।’

শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষার সময়টি পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কারিকুলামের বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা আমাকে দেওয়া হয়নি। কারিকুলাম দেড় বছরের। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের কোর্স কো-অর্ডিনেটরগণের সঙ্গেও কথা বলেছি, কেউ এ গিয়ে আনার পক্ষে না। তাদের বক্তব্য হলো, কারিকুলাম অনুসরণ ছাড়া পরীক্ষা নেওয়া, না নেওয়া একই কথা। তাঁরা ওই শিক্ষার্থীদেরই শিক্ষক।’

‘আমি তাদের (শিক্ষার্থী) বলেছিলাম, কোর্স কো-অর্ডিনেটর ও অধ্যক্ষের ফরওয়ার্ডিং চিঠি নিয়ে আমার সঙ্গে দেখা করতে, কিন্তু তারা এখনও তা জমা দেয়নি’—যোগ করেন অধ্যাপক ডা. শাহরিয়ার নবী।

ব্লক-পোস্টিংই শেষ হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, মার্চ মাস চলছে। সামনে এপ্রি-মে-জুন-জুলাই ...। ক্লাস শেষ হলে তো ব্লক-পোস্টিংয়ের প্রশ্ন আসবে। ব্লক-পোস্টিং শেষ হতে তিন মাস সময় লাগবে। করোনার সময় নানা দিক বিবেচনায় বহু কাটছাঁট করা গেছে। বিশেষ প্রেক্ষাপটে তখন সবাই সহানুভূতিশীল ছিলেন। কেউ আপত্তি করেননি। কিন্তু এখন করোনা নেই, কাজেই ওই সময়ে তো আর ফেরার সুযোগ নেই।

ঢাবি ডিন বলেন, তখন প্রস্তুতির অভাবে পরীক্ষায় বসতে অসম্মত ছিল এই শিক্ষার্থীরা। সুতরাং এখন প্রস্তুতির ব্যাপারে তারা আপোষ করবে কেন?

এদিকে নিজেদের দাবি-দাওয়া নিয়ে সোমবার (১৮ মার্চ) ঢাবি ডিন অফিসে যাবেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে দাবির পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরার পাশাপাশি তাদের ক্যারিয়ারের চিন্তা বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষা এগিয়ে আনার অনুরোধ জানাবেন তারা।

এএনএম/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত